কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে জনসমক্ষে লাঠিপেটার ঘটনায় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের বংশিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর একটি ভিডিও আজ বুধবার সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বংশিপাড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা তোলার সময় ছালেহা বেগম (৪০) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে একটি বস্তাভর্তি করলা উদ্ধার করা হয়, যা চুরির প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে সকাল নয়টার দিকে ছালেহার স্বামী বদিয়া মিয়া ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি সবার সামনে তাঁর স্ত্রী ছালেহাকে একটি গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন।

এ সময় উপস্থিত কেউ বদিয়াকে বাধা দেয়নি; বরং অনেকেই মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়। ফরহাদ হোসেন জানান, তাঁর জমি থেকে প্রায়ই করলা চুরি হচ্ছিল, এ কারণে তিনি নজরদারি বাড়িয়েছিলেন। সকালে ছালেহাকে এক বস্তা করলাসহ আটক করা হলে পরে তাঁর স্বামীকে খবর দেওয়া হয়, এবং তিনি এসে মারধর করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আইনগত অবস্থান

দাঁতভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন বলেন, "স্বামী এসে ছালেহাকে শাসন করে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে মারধরের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ঘটনা বিরল, এবং এটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, "এভাবে কাউকে গাছে বেঁধে মারধর করা সম্পূর্ণভাবে ভুল এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।" তিনি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সামাজিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে "বর্বরোচিত""মানবাধিকার লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নারী নির্যাতন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে, যা আইন ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি, এবং এটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।