চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুই মাসের শিশুকন্যাকে আছাড়ে হত্যার দায়ে বাবা আটক
হাটহাজারীতে শিশুহত্যা: বাবা আটক, ভাইও গ্রেপ্তার

হাটহাজারীতে দুই মাসের শিশুকন্যাকে আছাড়ে হত্যা: বাবা ও ভাই আটক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দুই মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে মাটিতে আছাড় দিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় তার বাবা মো. ওসমান গণি (৩০) ও ভাই রুম্মানকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও আটকের সময়

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওসমান গণি তার স্ত্রী সুমাইয়াকে চা দিতে বললে, রাতে শিশু কন্যা সাফরিনা জান্নাত মাহি না ঘুমানোর বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে ওসমান স্ত্রীর কোল থেকে দুই মাসের শিশুকন্যাকে জোর করে মাটিতে আছাড় দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

শিশুটির মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এস. এম. মেজবাহ উল করিম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে হাটহাজারী মডেল থানার এসআই মো. হাবীবুর রহমান ফোর্সসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পর ওসমান গণি আত্মগোপনে চলে যায়। তবে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে হাটহাজারী উপজেলার ১২ নম্বর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমান বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রূপন নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসমান গণি হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মুরাদপুর গ্রামের ইব্রাহীম মেম্বার বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের ভাইও আটক

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই ওসমান গণিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় ওসমান গণির ভাই রুম্মানকেও আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পরিবারটির অভ্যন্তরীণ কলহ ও মানসিক চাপ এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশু সুরক্ষা ও পারিবারিক সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।