চট্টগ্রামে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, প্রতিবেশী ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জেলার হাটহাজারী থানার একটি তুলার গুদাম থেকে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। গুদামটির পাশেই শিশুটির বাড়ি অবস্থিত, এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা লাশটি সনাক্ত করে।
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের ধারণা
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি গুদামের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির প্রতিবেশী মো. ফয়সাল নামের এক যুবককে অভিযুক্ত করছে পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভির ক্যামেরায় ফুটেজে দেখা গেছে, ফয়সাল শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতর ঢুকেছেন এবং পরে একা বেরিয়ে এসেছেন।
পরিবারের বেদনাদায়ক বর্ণনা
শিশুটির বাবা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, এবং মা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত ফয়সালও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে একই কলোনিতে বসবাস করেন, যদিও তাঁর মূল বাড়ি বরিশালে এবং পেশায় তিনি দিনমজুর। শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আমার মেয়েকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, এলাকায় মাইকিংও করেছি, কিন্তু কোনো সন্ধান পাইনি। পরদিন শুক্রবার আমরা থানায় জিডি করি।’
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শিশুটিকে তার প্রতিবেশী ফয়সাল ধর্ষণ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এটি স্পষ্ট দেখা গেছে যে তিনি শিশুটিকে নিয়ে তুলার গুদামে ঢুকেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে, এবং অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি
শিশুটির মা আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর খুন করেছেন ফয়সাল। আমি তার ফাঁসি চাই, যাতে এরকম নির্মম ঘটনা আর কখনো না ঘটে।’ এই ঘটনা এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং অপরাধীকে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



