খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতা নীতিদত্ত চাকমা গুলিতে নিহত
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় এক নৃশংস হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক) একজন নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নেতা নীতিদত্ত চাকমা (৪০) সংগঠনটির পানছড়ি উপজেলার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তদন্ত
পানছড়ি থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, সকালে উল্টাছড়ি ইউনিয়নে নীতিদত্ত চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ নীতিদত্ত চাকমাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এখন ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
দায়িত্ব ও প্রত্যাখ্যানের রাজনৈতিক সংঘাত
এ ঘটনায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলটি সরাসরি প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। তবে, সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করে শুধুমাত্র অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, ইউপিডিএফ (প্রসীত) এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের অন্যতম মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, ‘এটা তাদের (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক) দলের অভ্যন্তরীণ কারণে হয়েছে। আমাদের সংগঠন কোনোভাবেই জড়িত নয়।’ এই বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ উভয় দলই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে এবং পূর্বেও তাদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
নীতিদত্ত চাকমার মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। তিনি তার এলাকায় জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সামাজিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। এই হত্যাকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ প্রায়ই সহিংসতার দিকে মোড় নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



