নেত্রকোনায় একটি মাদ্রাসার নাবালিকা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা দেশের বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী ড. শামারুহ মির্জা। শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন।
শামারুহ মির্জার প্রতিক্রিয়া
ড. শামারুহ লিখেছেন, 'পুরো বাংলাদেশের যে ইস্যুতে এখন ক্ষোভে ফেটে পড়া উচিত, তা হলো নেত্রকোনার ঘটনাটি।' তিনি মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীর গর্ভধারণ এবং শিক্ষকই অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনাকে সুস্থ সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর চলমান পাশবিক নির্যাতনের খতিয়ান তুলে ধরে শামারুহ প্রশ্ন তোলেন, 'আমরা কি বুঝতে পারছি, শত শত 'পারভার্ট' আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে?'
প্রশাসনের ভূমিকা ও সামাজিক নীরবতা
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'যখন সংবিধান সংস্কার বা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে দেশ তোলপাড়, তখন শিশুদের ওপর হওয়া এই বর্বরতা নিয়ে সবাই কার্যত চুপ।' মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অস্বচ্ছতা ও ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতাকেও তিনি দায়ী করেন। শামারুহ মির্জা মনে করেন, এই ঘটনা শুধু নেত্রকোনায় নয়, সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশু নির্যাতনের একটি বড় চিত্র তুলে ধরে।
সমাধানের প্রস্তাব
শুধু নিন্দা নয়, এই সংকট নিরসনে শামারুহ মির্জা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন:
- প্রতিটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত একটি ডাটাবেজ তৈরি করা।
- শিশু সুরক্ষা নীতিমালা গ্রহণ এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
- মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করা।
তিনি স্পষ্ট বলেন, 'অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এমন ঘটে থাকতে পারে, কিন্তু সেটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।'
সার্বিক প্রেক্ষাপট
ঠাকুরগাঁও থেকে এটিএম সামসুজ্জোহা জানান, এই ঘটনা সারা দেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিশু নির্যাতন রোধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



