অধিকার অর্জন, সম্পদে অভিগম্যতা এবং প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণে প্রত্যাশার তুলনায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনেক পিছিয়ে। নেটজ পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘মানবাধিকার, সম্পদে অভিগম্যতা, প্রতিনিধিত্ব: নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি করেন বক্তারা।
গবেষণা প্রতিবেদন
‘রাইটস, রিসোর্সেস অ্যান্ড রিপ্রেজেন্টেশন অব উইমেন, গার্লস অ্যান্ড মাইনোরিটি গ্রুপস ইন ওয়ার্কিং ডিস্ট্রিক্টস: রিয়েলিটিস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’, শীর্ষক গবেষণা ফলাফলের ভিত্তিতে বিএমজেড ও নেটজ বাংলাদেশের সহায়তায় হোপ প্রকল্পের আওতায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকলেও সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক প্রথা, আইন ও নীতিমালাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। এর কারণে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার অর্জন, সম্পদে অভিগম্যতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
কাঠামোগত বাধা
অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এখনও নানাবিধ কাঠামোগত বাধা বিদ্যমান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে দরিদ্রতার পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতা কাঠামোগত বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ জন্য তারা সেবা আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, কিছু কিছু এলাকায় রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও এক ধরনের সামাজিক সংহতি রয়েছে। এটি সামাজিকভাবে এক ধরনের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অনেক বেশি, সেখানে সামাজিক সংহতি দেখা যায় না এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ
গ্রামাঞ্চলে পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এখন অনেক বেশি দৃশ্যমান জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে চলাচল, মত প্রকাশের অধিকার, সম্পদের অভিগম্যতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশ নেওয়াসহ নানা অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অন্যদিকে, শহরতলী এলাকায় মানব পাচার ও মাদকের প্রভাব অনেক বেশি। সেখানে নারী অনেক বেশি সহিংসতার শিকার হন।
শিক্ষার অধিকার
গবেষণায় আরও বলা হয়, সব এলাকাতে নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষার অধিকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, অধিকার আদায়ের জন্য যে শিক্ষা সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা গবেষণাভুক্ত এলাকায় প্রকল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সেই অধিকারবোধ সুস্পষ্ট হয়েছে। সম্পদে নারীর অভিগম্যতা ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় নারীবান্ধব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সরকারি উদ্যোগে নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে এবং উন্নয়ন ভাবনায় সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচকদের বক্তব্য
আলোচক হিসেবে অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিবি-২ মোহাম্মদপুর রেঞ্জের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার যেন সবার জন্য সমান হয়। নারীর প্রতি অপরাধ তুলনামূলকভাবে বেশি। অপরাধ কমানোর জন্য নৈতিকবোধ জাগ্রত করতে হবে।”
আলোচক সঞ্জিব দ্রং বলেন, “বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র, যেখানে বহু জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষের বাস। কিন্তু, আক্ষেপের বিষয় হলো, সাংবিধানিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজ এখনও নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
র্যাব হেডকোয়ার্টারের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা স্থানীয় সমস্যা সমাধানে হেল্প ডেস্কে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আইনি সুরক্ষা না পেলে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।



