বুধবার দেশব্যাপী আলোচনা, র্যালি ও মোবাইল কোর্ট অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। শব্দ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এই আয়োজন।
আয়োজক ও অংশগ্রহণ
পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসন সব ৬৪টি জেলায় এতে সহায়তা করে।
ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় ফরিদুল বলেন, মানুষ সাধারণত দৃশ্যমান দূষণকে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু শব্দ দূষণ অদৃশ্য হওয়ায় প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। তিনি বলেন, 'শব্দ দূষণের প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত ক্ষতিকর।'
তিনি শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, মানুষ সচেতন হলে সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী সামাজিক সংগঠনগুলোকে শব্দ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এসব প্রচেষ্টা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতি ও অন্যান্য অতিথি
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নূরুন নাহার; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর; পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান; এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের মতামত
নূরুন নাহার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান, সচেতনতা প্রচারণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আনিসুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার অধীনে ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়ার পর থেকে তারা ১৭ হাজার মামলা দায়ের ও ২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, শব্দ দূষণ একটি মানবসৃষ্ট দূষণ যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং এটি শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বক্তারা শব্দ দূষণ কমাতে জনসচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
সরকারি সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্কাউট, গাইড ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ঢাকার প্রধান সড়কের ফুটওভারব্রিজ ও অন্যান্য দৃশ্যমান স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয় এবং দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকে প্রদর্শনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।



