মাদক সেবন দেখে ফেলায় ভাতিজাকে ছুরিকাঘাত, বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধা নিহত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলাকে কেন্দ্র করে এক ভাতিজার ওপর ছুরিকাঘাত চালানো হয়েছে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘাতককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে ২২ এপ্রিল, বুধবার দুপুর ১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আশিক মিয়ার ছেলে হেলিম মিয়াকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান তার ভাতিজা সাইদুল ইসলাম (২৫)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলিম দুপুরে ধারালো ছুরি দিয়ে সাইদুলের ওপর হামলা চালান।
আহত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে সাইদুল পাশের বাড়ির বাসিন্দা মৃত ইলিয়াছ মিয়ার স্ত্রী বকুল বেগমের (৫৫) ঘরে আশ্রয় নেন। হামলাকারী হেলিম মিয়া তাকে ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢুকে পুনরায় সাইদুলকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এ সময় গৃহকর্ত্রী বকুল বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
আরও তিনজন আহত
চিৎকার শুনে বকুল বেগমের জামাতা ওয়াদুদ মিয়া (৩৫) এবং একই এলাকার সেলিম মিয়ার দুই ছেলে সাইদুল মিয়া (১৮) ও আমিনুল ইসলাম (১৬) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বকুল বেগমকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত বাকি তিনজনের মধ্যে এক জন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ও দুই জনকে সিলেট এমএজি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘাতকের গ্রেফতার ও এলাকার প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে মুন্সিবাজারের একটি পেট্রল পাম্প এলাকায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহসহ ঘাতক হেলিমকে থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসে।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিহত বকুল বেগমের ঘরে স্বজনদের আহাজারিসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত বকুল বেগমের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, "হেলিম মিয়া তার ভাতিজাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাদের ঘরে নিয়ে আসে। এ সময় আমার মা এবং প্রতিবেশী সাইদুল ও আমিনুল বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এলে তাদেরও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।"
স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য
স্থানীয় রহিমপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, "হামলাকারী হেলিম মিয়া খুবই খারাপ লোক। এর আগেও একাধিকবার জেল খেটেছে। সে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের সঙ্গে জড়িত।"
কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, "নেশা করতে দেখে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা ঘাতক হেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছি।" তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা ও সহিংসতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



