বিডিআর হাসপাতালের মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের হত্যার অভিযোগে জবানবন্দি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে হাবিবুর রহমান মল্লিক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, যিনি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হত্যার অভিযোগে চাচার জবানবন্দি
৬৬ বছর বয়সী হাবিবুর রহমান মল্লিক ঝালকাঠির নলছিটির বাসিন্দা। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে নজরুল ইসলাম বিডিআর হাসপাতালের মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি করতেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের সময় বিকেলের দিকে নজরুল তাঁদের ফোন করে জানান, তিনি আর বিডিআর হাসপাতালে থাকবেন না এবং সেখান থেকে বের হয়ে যাবেন। সে অনুযায়ী নজরুল কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।
পরবর্তী সময়ে নজরুলের বাবা ফোনে বিডিআরে যোগদানের বিষয়ে বললে নজরুল জবাব দেন, 'আমি বিডিআরে যোগদান করব না। কারণ, সাক্ষীদের মেরে ফেলছে মর্মে শুনেছি।' এই ঘটনা নজরুলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
গুম ও হত্যার বিস্তারিত বিবরণ
২০১০ সালের জানুয়ারিতে নজরুল ইসলাম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মধুমতি ক্লিনিকে চাকরি নেন বলে হাবিবুর রহমান মল্লিক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর কিছুদিন পর নজরুল পরিবারকে সেখানে নিয়ে যান এবং মেডিক্যাল কোয়ার্টারে একটি ছোট রুম ভাড়া নেন। তবে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ ক্লিনিকের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নজরুল আর বাসায় ফেরেননি।
২০১০ সালের মে মাসে ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির (জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা) লোক তাঁদের বাড়িতে গিয়ে জানান, নজরুলের লাশ বলেশ্বর নদে পাওয়া গেছে। হাবিবুর রহমান মল্লিক জবানবন্দিতে দাবি করেন, র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছে বলে তিনি লোক মারফত জানতে পেরেছেন। এই অভিযোগ মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলার প্রাসঙ্গিকতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত, যেখানে বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো তদন্তাধীন। হাবিবুর রহমান মল্লিকের জবানবন্দি নজরুল ইসলামের গুম ও হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য যোগ করেছে, যা আদালতে বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে। আসামি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে আজকের শুনানিতে সাক্ষীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে, এবং মামলার পরবর্তী শুনানি তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনা বাংলাদেশে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছে।



