নওগাঁর ধামইরহাটে একটি মাদ্রাসার দশ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মমিনুল হক (২৬) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার বাদাল চাঁনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
গ্রেপ্তারকৃত মমিনুল হক জেলার পত্নীতলা উপজেলার বরইল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। তিনি বাদাল (চাঁনপুর) দারুল উলুম আশরাফিয়া থানভিয়া কওমী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে এশার নামাজের সময় শিক্ষক মমিনুল হক অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পাশের মসজিদে পাঠিয়ে দেন। এ সময় প্রয়োজনীয় কথা আছে বলে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে কৌশলে মাদ্রাসার একটি শয়নকক্ষে রেখে দেন। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মসজিদে চলে গেলে সেই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করেন।
স্থানীয়দের ভূমিকা ও মামলা
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে এবং নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার সভাপতি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও ব্যবস্থা
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



