সুইজারল্যান্ডের ব্যুর্গেনশ্টকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা সম্পদে ছাড় দেওয়া এবং লেবানন যুদ্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ইস্যুতে কিছু অগ্রগতির কথাও জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় কয়েকটি ইস্যুতে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও জাহাজ চলাচলে বাধা এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক যোগাযোগে একমত হয়েছে। প্রথম ধাপের আলোচনা শেষে এ কথা জানায় কাতার ও পাকিস্তান। যৌথ বিবৃতিতে দেশ দুটি জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যে একটি যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো ও ভুল–বোঝাবুঝি দূর করতে এটা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জ্বালানি তেল ও জব্দ সম্পদে 'বড় অগ্রগতি'
প্রথম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল ও ইরানের জব্দ করা কিছু সম্পদের বিষয়ে আলোচনায় 'বড় অগ্রগতি' হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় আব্বাস আরাগচি বলেন, 'পাকিস্তান ও কাতারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় অগ্রগতি হয়েছে।'
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এরপর ১২–১৩ এপ্রিল পাকিস্তানে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তার পর থেকে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি দেশ। জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় গত বুধবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সপ্তাহজুড়ে আলোচনা চলবে
প্রথম ধাপের আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার আজ সোমবার একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশযাপনকেন্দ্রে এ সপ্তাহজুড়ে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা চলবে। আলোচনার লক্ষ্য থাকবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানো। যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় আগেই পৌঁছেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এখন ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসেছে দুপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর গতকাল সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আলোচনার লক্ষ্য ও সংশয়
আলোচনার লক্ষ্য গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
প্রতিনিধিদল ও মধ্যস্থতাকারী
চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান ও কাতার। গতকালের আলোচনায় ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি।



