ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: যুদ্ধ থামানোর আশায় বিশ্বের নজর
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, যুদ্ধ থামার আশা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: যুদ্ধ থামানোর আশায় বিশ্বের নজর

হঠাৎ ঘোষিত দুদিনের সরকারি ছুটিতে ইসলামাবাদের রাজপথ নিস্তব্ধ থাকলেও, কড়া নিরাপত্তার আড়ালে চলছে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা। পুরো বিশ্বের নজর এখন এই শহরের দিকে, কারণ এখানেই সাপ্তাহিক ছুটিতে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সেই বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণঘাতী এক যুদ্ধ থামানো সম্ভব হতে পারে।

পাকিস্তানের ভূমিকা: উগ্রবাদ থেকে মধ্যস্থতাকারী

যেই পাকিস্তান কিছুদিন আগেও উগ্রবাদ ও নড়বড়ে অর্থনীতির কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ছিল, সেই ইসলামাবাদই এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতারণা’ ছাড়া কিছুই পায়নি। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের অ্যাবোটাবাদে ধরা পড়ার ঘটনা দেশটিকে বিশ্বদরবারে প্রায় একঘরে করে দিয়েছিল। এমনকি জো বাইডেন তার পুরো মেয়াদে পাকিস্তানের কোনও প্রধানমন্ত্রীকেই ফোন করেননি।

কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সব ওলটপালট হয়ে গেছে। ট্রাম্প এখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তার ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে ডাকছেন। এই বিস্ময়কর পরিবর্তনের মূলে রয়েছে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাকিস্তানের স্বার্থ ও কূটনৈতিক সাফল্য

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে ইসলামাবাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তান তার জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে রিয়াদ যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানেরও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের বলেন, ‘পাকিস্তান নিজেকে এমন এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখান থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হয়েছে।’

পাকিস্তানের এই সাফল্যে বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের বেইজিং সফর ইরানের নমনীয় হওয়ার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সম্মতির সঙ্গে পাকিস্তানের তদবির মিলে যাওয়ায় ইরানিদের জন্য আলোচনার টেবিলে আসা সহজ হয়েছে।

বৈঠকের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ

আলোচনায় অংশ নিতে আসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। ২০১১ সালের পর ভ্যান্সই হবেন পাকিস্তান সফরকারী সবচেয়ে উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা। এরই মধ্যে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল খালি করে অতিথিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বৈঠকের গুরুত্ব ও গোপনীয়তা নির্দেশ করে।

তবে এই শান্তি আলোচনা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ এই ঘটনা বৈঠকের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে, তবে পাকিস্তান ও অন্যান্য পক্ষ আশা করছে, আলোচনা যুদ্ধ থামানোর দিকে অগ্রসর হবে।