বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্ব বৃদ্ধি: মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিবের মূল্যায়ন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্র সচিব পল কাপুর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্ব আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
সম্পর্কের বহুমুখী দিক
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সহকারী সচিব কাপুর বলেন, "আজ, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং সুশাসনের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা, পাশাপাশি তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তুলছে।
সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র
মার্চ মাসে পল কাপুর বাংলাদেশে একটি দুই দিনের সফর করেন। সেই সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- আমেরিকান ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ
- অবৈধ অভিবাসন নিয়ে সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা গভীরতর করা
তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন।
শক্তি নিরাপত্তায় মার্কিন প্রতিশ্রুতি
সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠকে মার্কিন শক্তি সচিব ক্রিস রাইট বাংলাদেশের বর্তমান শক্তি চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করেছেন। তিনি তার দেশের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার এবং এর শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শক্তি সচিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অনুরোধগুলো বিবেচনা করবে এবং তিনি ও তার দল এই লক্ষ্যে মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিবরণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৩১ মার্চ ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে শক্তি বিভাগে মার্কিন শক্তি সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ড. রহমান সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ যে শক্তি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা ও সমর্থনের জন্য শক্তি সচিবের কাছে অনুরোধ জানান।
এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ক্রমাগত বিকাশমান থাকায়, ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



