পূজা বেদির কড়া জবাব শিল্পা শিন্ডের মন্তব্যে, মিথ্যা অভিযোগ আইনের অপব্যবহার
পূজা বেদির কড়া জবাব শিল্পা শিন্ডের মন্তব্যে

ভারতের টেলিভিশন অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে। প্রায় এক দশক আগে ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’ ধারাবাহিকের প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে দেওয়া তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা বেদি।

শিল্পা শিন্ডের বক্তব্য

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা শিন্ডে বলেন, ২০১৬ সালে তিনি যে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন, সেটি করার পেছনে তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না। পরে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটে যায়। তবে তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

পূজা বেদির প্রতিক্রিয়া

‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পূজা বেদি বলেন, যেসব নারী প্রতিশোধ, ব্যক্তিগত লাভ, প্রচার কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তাঁরা মূলত সেই আইনের উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তব্যে পূজা বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগ শুধু নির্দোষ মানুষের জীবন ধ্বংস করে না, প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কথাও মানুষের কাছে কম বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। আইনের এমন অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। এর জন্য কঠোর জবাবদিহি ও পরিণতি থাকা উচিত।’

তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘ মেয়াদে সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ, প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা তখন সামনে এসে অভিযোগ করতে দ্বিধায় ভোগেন। অনেকেই আশঙ্কা করেন, তাঁদের কথাও হয়তো সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

পূজা বেদি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য যে আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা জরুরি। মিথ্যা অভিযোগের ঘটনা সামনে এলে সেই আস্থাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিতর্কের সূত্রপাত

বিতর্কের সূত্রপাত শিল্পা শিন্ডের সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি বলেন, ‘মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই বিষয়টি জানেন না। কিন্তু সত্য কথা বলতে আমার ভয় নেই। আমি প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করেছিলাম, কারণ তখন আমার সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। পরে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটে যায় এবং আমি সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম।’

শিল্পার অভিযোগের পটভূমি

উল্লেখ্য, ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন শিল্পা শিন্ডে। ২০১৬ সালে তিনি শোটি ছেড়ে দেন। সে সময় তিনি প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে হয়রানি ও পারিশ্রমিক–সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। ঘটনাটি দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

শিল্পার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এক পক্ষের মত, আইন ও অভিযোগ ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে অনেকের মতে, এই বিতর্কের মধ্যেও প্রকৃত ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে।

কী অভিযোগ করেছিলেন শিল্পা?

‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’ অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে ও প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরোধ ভারতীয় টেলিভিশনের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি। ২০১৬ সালে শো ছাড়ার পর শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব ২০১৭ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগে রূপ নেয়, আর ২০২৬ সালে শিল্পা নিজেই সেই অভিযোগকে মিথ্যা বলে স্বীকার করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

২০১৬ সালের মার্চে শিল্পা শিন্ডে হঠাৎ করে ধারাবাহিকটি ছেড়ে দেন। তখন তিনি অভিযোগ করেন যে প্রযোজনা সংস্থা তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে, পাওনা অর্থ দিচ্ছে না এবং চুক্তিগতভাবে তাঁকে চাপে রাখছে। অন্যদিকে প্রযোজকপক্ষ দাবি করে, শিল্পা চুক্তি ভঙ্গ করেছেন এবং অপ্রফেশনাল আচরণ করেছেন।

২০১৭ সালের মার্চে শিল্পা মহারাষ্ট্রের ওয়ালিভ থানায় সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন—সঞ্জয় কোহলি তাঁকে প্রায়ই ‘সেক্সি’ ও ‘হট’ বলে সম্বোধন করতেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দিতেন, তাঁর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে শো থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একজন মেকআপ আর্টিস্ট এই আচরণের সাক্ষী ছিলেন এবং পরে তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

শিল্পা তখন বলেছিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে ছিলেন এবং অন্য নারীদের হয়ে কথা বলার জন্যই অভিযোগ করেছেন।

সঞ্জয় কোহলি ও তাঁর স্ত্রী তথা শোর প্রযোজক বেনাইফার কোহলি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি ছিল, শিল্পা চুক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের কারণে এসব অভিযোগ তুলেছেন। পরে তাঁরা মানহানির মামলাও করেন বলে সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বছর কয়েক পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। শিল্পা তাঁর পাওনা অর্থ পান এবং বিরোধ আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করা হয়। পরে যৌন হয়রানির মামলাটিও প্রত্যাহার করা হয়।