ইরানের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের সরাসরি সামরিক অভিযানে জার্মানি অংশগ্রহণ করবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল। সোমবার সকালে পাবলিক রেডিও ডয়চল্যান্ডফাস্ক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফেডারেল সরকারের এই অটল অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
সরকারের ইচ্ছা ও সামরিক সক্ষমতার অভাব
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল তার বক্তব্যে বলেন, ফেডারেল সরকারের এই সংঘাতের অংশ হওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, জার্মানির প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতাও এই ধরনের সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। এই অবস্থানটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জার্মানির সতর্ক ও শান্তিপূর্ণ নীতিকে প্রতিফলিত করে।
আত্মরক্ষার সম্ভাবনা
সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও জর্ডান ও ইরাকের বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা জার্মান সেনাদের ওপর হামলা হলে তারা আত্মরক্ষা করবে বলে জানান ওয়াদেফুল। তিনি বলেন, আমাদের বুন্দেসওয়েয়ার (জার্মান সশস্ত্র বাহিনী) সেনারা আক্রান্ত হলে তারা নিজেদের রক্ষা করবে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোষণা জার্মান সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।
ঘাঁটিতে হামলা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর তথ্যমতে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার পর যেসব ঘাঁটিতে জার্মান সেনারা অবস্থান করছেন, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে উত্তর ইরাকের ইরবিল এবং জর্ডানের আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে।
জার্মান সেনাদের নিরাপত্তা
জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, এসব হামলায় দায়িত্বরত কোনও জার্মান সেনা সদস্য আহত হননি এবং তারা বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন। এই তথ্য জার্মান সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।
সামগ্রিকভাবে, জার্মানির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সংঘাতে তাদের নিরপেক্ষতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারকে তুলে ধরে, পাশাপাশি সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেয়।



