অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ চাইবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে দেশটি নিজেই তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম। একইসঙ্গে, তিনি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি।'
'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমাদের মোটো হচ্ছে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট'। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।'
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা
- অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপ নীতি
- পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গঠন
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'আমরা সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা আশা করি, আমাদের অঞ্চলের এবং বিশ্বের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবো।'
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যতের বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে বলেন, 'আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমাদের সব ইস্যু আমরা পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্মানজনকভাবে সমাধান করবো। আগামী দিনে আমরা অত্যন্ত গতিশীল বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে পারব।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'এখন পর্যন্ত আমরা সৌজন্যমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। ভবিষ্যতে আমরা স্পেসিফিক বিষয় নিয়ে আলাপ করবো, এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।'
ড. খলিলুর রহমানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে তুলেছে, যা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটায়।



