কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে আবারও ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আহসানুল হাফিজ। টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্টে অন্টারিও লিবারেল পার্টির অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলীয় মনোনয়ন নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তিনি। এই বিজয়কে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মনোনয়ন নির্বাচনের বিস্তারিত
গত ৯ মে স্থানীয় বার্চমাউন্ট কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে আহসানুল হাফিজ শক্তিশালী তিন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে দলীয় টিকিট নিশ্চিত করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাংসদ নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথ, কাদিরা জ্যাকসন এবং মাহমুদা নাসরিন। উল্লেখ্য, স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক এমপিপি ডলি বেগম ফেডারেল রাজনীতিতে নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই লিবারেল পার্টির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল।
আহসানুল হাফিজের পটভূমি
প্রায় ২৫ বছর আগে একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পাড়ি জমান আহসানুল হাফিজ। দীর্ঘ সংগ্রাম আর মেধার জোরে তিনি আজ কানাডার রাজনীতি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে সুপরিচিত। বর্তমানে তিনি ফেডারেল লিবারেল পার্টির অন্টারিও প্রদেশের ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি সফল; অন্টারিওজুড়ে প্রায় ৩০টি ডমিনোস পিজ্জা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তিনি যুক্ত এবং ডমিনোস কর্পোরেটের একজন পরিচালক। এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনেও তিনি অন্টারিও সকার লিগের পরিচালক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।
বিজয়োত্তর বক্তব্য
বিজয়োত্তর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হাফিজ বলেন, “আপনাদের সমর্থনই আমাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। একজন অভিবাসী হিসেবে আমি যে সুযোগ পেয়েছি, সেই সুযোগ যেন এই এলাকার প্রতিটি মানুষ পায়, সেটিই আমার লক্ষ্য।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কমিউনিটিকে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মনোনয়নের এই জয় প্রাথমিক ধাপ মাত্র, উপনির্বাচনের বিজয়ই হবে আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য।”
আসন্ন উপনির্বাচনের সম্ভাবনা
আসন্ন উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবে এনডিপি। দলটি ইতিমধ্যে ফাতিমা শাবানকে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টি এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। ইলেকশন কানাডার আইন অনুযায়ী, আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে এবং সর্বোচ্চ ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



