নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেওভোগে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগে পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে হাতকড়াসহ আটকদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের সহযোগীরা। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে আটককৃত ও ছিনিয়ে নেওয়া অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী সাবেক পুলিশ সদস্যের নাম মো. সোলেমান। তার বাড়িতে লুটপাট চালাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সোলেমানের বাড়ি থেকে লুট করা মালামাল ভ্যানগাড়িতে তোলা হচ্ছিল। এসব মালামাল তোলা পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে দুজনকে হাতকড়া পরানো হয়। বাকিরা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি আটকদের প্রশ্ন করে, 'তোমাদের এসব মালামাল নিতে বলেছে কে?' তখন আটক এক ব্যক্তি বলে, 'আজাদ ও জনি ভাই আমাদের পাঠিয়েছে। টাকার বিনিময়ে আমরা কাজ করতে এসেছি। ভ্যানগাড়িতে মালামাল উঠিয়ে দিতে বলেছে আমাদের।'
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
সাবেক সদস্য মো. সোলেমান বলেন, 'প্রায় দুই মাস আগে আমি গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে বেড়াতে যাই। এ সুযোগে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে একদল লুটেরা বাড়ির তালা ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। টিভি ও ফ্রিজসহ ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় আমি মামলা করবো।'
পুলিশের বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, 'অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে লুটপাটে জড়িত পাঁচ জনকে আটক করা হয়। এ সময় দুজনকে হাতকড়া পরায় পুলিশ। পরে তাদের সহযোগীরা জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ায় এবং হামলা চালিয়ে আটকদের ছিনিয়ে নেয়। তবে এ ঘটনায় পুলিশের কোনও সদস্য আহত হননি। কারা লুটপাটে জড়িত, আর কারা হামলা করেছে তার তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।'
আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতকড়া নিয়ে গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনুজ্জামান বলেন, 'হাতকড়া নিয়ে যায়নি। হাতকড়া পুলিশের কাছেই রয়েছে। শুধু অভিযুক্তদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।'
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নগরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হন র্যাব-১১-এর তিন জন সদস্য। তার কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তার সহযোগীরা।



