অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি

‘স্বাধীন গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। তবে স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাটাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সেমিনারের বিস্তারিত

গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমদ।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া একসময় ‘হ্যাং’ হয়ে গিয়েছিল। একটি রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে নতুন করে ‘রিস্টার্ট’ করা হয়েছে। একটি ভোট ডাকাতির পার্লামেন্ট বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং জনগণ অবাধ ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০০৪ সালে গণমাধ্যমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে শ্রম আইন ও পেশাগত মর্যাদার এক জটিল রসায়ন রয়েছে। তিনি সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম জগতের সবচেয়ে বড় অংশীদার সাংবাদিকেরা। তাঁদের মেধা ও শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা করেন। তাই সাংবাদিকদের বেতন ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ দিক

মূল প্রবন্ধে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, অপতথ্য বা গুজব রোধে তথ্য যাচাই, ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত সতর্কতার সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর। এ ধরনের অপতথ্য, গুজব বা চাঞ্চল্যকর খবর দেখলে শেয়ার করার আগে এর উৎস জানতে হবে, খবরটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তথ্যটি এ ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যম বা স্বীকৃত ওয়েবসাইটের তথ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে।

আবদাল আহমদ আরও বলেন, অপতথ্য বা গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স বা কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। মিডিয়া হাউসগুলোয় নিজস্ব উদ্যোগেই ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বিভাগ থাকা খুব জরুরি, যা সত্য খবর পরিবেশনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে।

অন্যান্য বক্তা

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিকী ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ–এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।