পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী সোমবার। তার দুই দিন আগে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা দুই শতাধিক আসনে জিতে রাজ্যে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে এবং বিজেপির স্বপ্ন ভেঙে দেবে।
মমতা ও অভিষেকের ভার্চুয়াল বৈঠক
শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে কালীঘাটের দলীয় দপ্তরে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মমতা বলেন, শেয়ারবাজার চাঙা রাখতে বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একই কৌশল নিলেও ফলাফলে মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে। তিনি রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেন, বিজেপি নয়, ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল।
অভিষেকের জবাব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভুয়া সমীক্ষা তুলে ধরে আর্থিক জালিয়াতি করেছে বিজেপি, এবার তার জবাব পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চেয়ে এবার বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল। ২০২১ সালে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ২১৩টি আসনে।
তৃণমূল নেতারা দলের কর্মীদের আপসহীন লড়াই ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করে ভোটযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। মমতা ও অভিষেক কাউন্টিং এজেন্টদের গণনা কেন্দ্রে কড়া নজর রাখতে এবং প্রতি মুহূর্তের ফলাফল দলীয় নেতৃত্বকে জানাতে নির্দেশ দেন। ভোরেই এজেন্টদের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণনা কেন্দ্র ও অভিযোগ
এবার রাজ্যের ২৯৪ আসনের ভোট গণনা হবে কলকাতাসহ ৭৭টি কেন্দ্রে, যা ২০২১ সালে ছিল ১০৮টি কেন্দ্রে। অভিষেক অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি এবার ‘নির্বাচন কমিশন’ হিসেবে কাজ করেছে, ফলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কমিশন নিযুক্ত যেসব পর্যবেক্ষক অসাংবিধানিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



