ভারতের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ১১টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজন করছে। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই ১১ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। বুধবার (২৮ এপ্রিল) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
মহড়ার সময় ও স্থান
জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়ে ‘প্রগতি’ নামের এই বহুজাতিক সামরিক মহড়া আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছে লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া এবং ভুটান—মোট ১১টি দেশ।
মহড়ার উদ্দেশ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য (আইএসপিআর) বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তর জানিয়েছে, এই মহড়া আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরবে। বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন এই মহড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বিদ্রোহ দমন ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান। এই দুটি ইস্যু মোকাবিলায় যৌথ প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল
সেনাবাহিনী সূত্র আরও জানিয়েছে, এটি প্রতিবেশী ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পৃক্ততার একটি অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ অভিযানের সামর্থ্য গড়ে তোলা। অতীতে ভারত যেখানে একটি-দুটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক সামরিক মহড়া করত, সেখানে একসঙ্গে ১১ দেশের সঙ্গে মহড়ার আয়োজন বোঝাচ্ছে যে ভারতের সামরিক বাহিনী এশিয়ার বিভিন্ন সামরিক শক্তির সঙ্গে কনসোর্টিয়াম ধরনের সংযুক্তি চাইছে বলে ধারণা করছেন ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।



