তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি ‘মুগেম’: কী থাকছে এতে?
তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি ‘মুগেম’: কী থাকছে?

বিশ্ব যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ এবং সামগ্রিক বিষয়ে ব্যস্ত, এমন সময়ে তুরস্ক তাদের নিজস্ব বিমানবাহী রণতরি ‘মুগেম’ নির্মাণের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান এরকুমেন্ত তাতলোইগু জানিয়েছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ জাহাজটির নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে।

রণতরির বৈশিষ্ট্য

প্রায় ৬০ হাজার টন ধারণক্ষমতা ও ২৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই রণতরিটি তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হবে। এটি আকারে ফ্রান্সের শার্ল দ্য গলকের চেয়েও বড়। নতুন এই জাহাজে প্রায় ৬০টি বিমান বহনের সক্ষমতা থাকবে এবং এতে স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়নের সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তুরস্ক তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উপস্থিতিতে কাজ শুরু হয়েছিল। একাধিক শিপইয়ার্ড এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করায় দ্রুত নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা খাতে জোর দিচ্ছে। ইসরাইলের রাজনীতিক নাফতালি বেনেত তুরস্ককে ‘পরবর্তী ইরান’ বলেও মন্তব্য করেছেন। ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার পর তুরস্ক আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে গতি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতা তুরস্ককে নৌ-ক্ষমতা জোরদারে আরও আগ্রহী করে তুলছে।

অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র ও বিমান

এই রণতরিতে মানববিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজিলেলমা’, ‘হুরজেট’ হালকা যুদ্ধবিমান এবং ‘কান’ পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারের সম্ভাব্য নৌ সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এআই-নিয়ন্ত্রিত বায়রাকতার টিবি৩ ড্রোনও এতে মোতায়েন করা হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ন্যাটোর ভেতরেও দেশটির গুরুত্ব বাড়াবে। তবে এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আধুনিক যুদ্ধে বড় যুদ্ধজাহাজের কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে—বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি—তবুও তুরস্কের এই রণতরিতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।