এআরটি চুক্তি নিয়ে মুখোমুখি বিতর্ক: কে মিথ্যা বলছেন?
এআরটি চুক্তি নিয়ে বিতর্ক: কে মিথ্যা বলছেন?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি নিয়ে দেশে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের টকশোতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে এক আলোচনায় চুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানতেন কিনা, তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।

চুক্তি স্বাক্ষরের পটভূমি

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ জারি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর পালটা শুল্ক আরোপ করে। এরপর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর অনুরোধ জানান। যুক্তরাষ্ট্র পরে একটি অভিন্ন আরটি চুক্তির খসড়া পাঠায় এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর জন্য ৩০ আগস্ট একটি রিভাইসড আরটি হার নির্ধারণ করে, যা বাংলাদেশের জন্য ছিল ২০ শতাংশ। পরে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা ১৯ শতাংশে নেমে আসে।

টকশোতে বিতর্ক

খালেদ মহিউদ্দিন শফিকুল আলমকে প্রশ্ন করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানতেন কিনা। জবাবে শফিকুল বলেন, চুক্তিটি কেবিনেটে অনুমোদিত হয়েছে এবং ইউনূস অবশ্যই জানতেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ায় কেবিনেটের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খালেদ জানতে চান, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কিনা। শফিকুল বলেন, খলিলুর রহমান যেহেতু আলোচনার নেতৃত্বে ছিলেন, তার কথা সত্য। তবে কেবিনেটে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কে মিথ্যা বলছেন?

খালেদ মহিউদ্দিন উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাহলে খলিলুর রহমান ও জামায়াত আমিরের মধ্যে কে মিথ্যা বলছেন? শফিকুল আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে খলিলুর রহমানের সঙ্গেই কথা বলা উচিত।

এআরটি চুক্তি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমালোচনা চলছে। গত ২১ এপ্রিল বরিশালে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট পথসভা করে চুক্তি বাতিলের দাবি জানায়। বক্তারা বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর।