বজ্রপাতে ৫৬ জনের মৃত্যু, কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা জারি
বজ্রপাতে ৫৬ জনের মৃত্যু, কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা

এক সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাত চলছে। এর ফলে ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করলেও বজ্রপাতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের জন্য আগাম সতর্ক বার্তা দেওয়া হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার জন্য কালবৈশাখী ঝড়ের একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিদ্যুত চমকানোসহ পশ্চিম বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে মানুষ এখন বেশ উদগ্রীব, যা গুগল সার্চেই প্রমাণিত। কেননা গুগল ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে রয়েছে আবহাওয়া ও বৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের নানা প্রশ্ন।

আগামী দশদিনে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নেই

এরই মধ্যে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বৃষ্টিপাতসহ বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে আগামী দশদিনের মধ্যে আপাতত বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপ তৈরি এবং ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে সাগরে তীব্র গতির বাতাস থাকার কারণে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তাপমাত্রার পূর্বাভাস

কিন্তু মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মুহাম্মাদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে সাধারণত গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও এই তাপমাত্রা বেড়ে ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। তবে এবার শুধুমাত্র একবারই ২২শে এপ্রিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরে এখন যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে তা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। আপাতত তাপপ্রবাহ নেই, গরমের অনুভূতির তীব্রতাও কম। উচ্চ তাপমাত্রার অসহনশীল এপ্রিল মাস এবার অনেকটাই সহনশীল।

কালবৈশাখী ঝড়: সময়, কারণ ও সংখ্যা

সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসকে প্রি-মুনসুন বা প্রাক-বর্ষা বলা হয়। এই প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে যে ৩৮ শতাংশ বজ্রঝড় হয়, স্থানীয়ভাবে সেটিকে কালবৈশাখী ঝড় বলা হয়। তবে সব বজ্রঝড়ই কালবৈশাখী নয়। জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যে বজ্রঝড় হয় সেটি কালবৈশাখী ঝড় নয়, বরং বজ্রঝড়ই বলা হয়। এই বজ্রঝড়ের পরিমাণ প্রায় ৫১ শতাংশ। প্রি-মনসুন মৌসুমে মেঘ থেকে ভূমিতে বা ভূমি থেকে মেঘে বজ্রপাত বেশি হয় এবং মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে।

মার্চ মাসে গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি, এপ্রিল মাসে গড়ে নয়টি এবং মে মাসে ১৩টি কালবৈশাখী ঝড় হয়। তবে এবার বজ্রমেঘ তৈরির ঘনঘটা বৃদ্ধি পেয়েছে, এখন পর্যন্ত দশটির বেশি বজ্রঝড় তৈরি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বুধবার থেকে রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগে বজ্রমেঘ তৈরি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বজ্রঝড় তৈরি হয়ে ব্যাপক তান্ডব চালাতে পারে।

সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুত চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

মে মাসে কী কোনো ঘূর্ণিঝড় হবে?

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, খুব অল্প সময়ে, অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রঝড় তৈরি হয় বলে কয়েক দিন আগে এ সম্পর্কে ধারণা করা কঠিন। অবশ্য কোনো অঞ্চলে ব্যাপক গরম পড়লে তখন কেউ কেউ অনুমান করেন, এ ধরনের ঝড় হতে পারে। তবে এটি নিতান্তই আবহাওয়ার অবস্থা দেখে অনুমান করা। কালবৈশাখী কোথায় কতক্ষণ হবে সেটি আগে থেকে জানিয়ে দেওয়ার মতো বৈজ্ঞানিক কোনো উপায় এখনো নেই।

এপ্রিল মাসে যে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার কথা, ইতিমধ্যেই এবার সেই সীমা পার হয়েছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। জুন মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। এর ফলে আগামী দুই মাসে মাঝে মাঝেই গরমের অনুভূতির তীব্রতা বাড়বে। কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি এবং বাতাসের গতিবেগ কম থাকলে গরমের অনুভূতি বাড়ে। মে মাস ঘূর্ণিঝড়প্রবণ মাস উল্লেখ করে তিনি জানান, এক থেকে দুইটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে আপাতত দশদিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা লঘুচাপ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।