পঞ্চগড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন এক কলেজপড়ুয়া যুবক। তবে সেই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। তাকে ক্ষমা করে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত
গত শুক্রবার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন যুবদলের ইউনিয়ন সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম। মামলায় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে নিশাদ ইসলাম (২০)কে আসামি করা হয়। অভিযোগ, নিশাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে তাতে আপত্তিকর মন্তব্য যুক্ত করেন; যা ভাইরাল হয়।
গ্রেফতার ও প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা
মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে শুক্রবার গভীররাতে নিশাদকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নজরে এলে তিনি জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত নিশাদ ইসলাম একজন শিক্ষার্থী। প্রতিমন্ত্রীর কাছে মনে হয়, শিক্ষার্থীটি হয়ত বুঝে বা না বুঝে কিংবা অন্য কারো প্ররোচনায় এমন কাজ করেছে।
তাই তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে ওই যুবকের বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত যুবক তার সন্তানের সমবয়সি হওয়ায় তাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
যুবকের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে নিশাদের বাবা আশরাফ আলী জানান, প্রতিমন্ত্রী তার ছেলের জামিনের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইতোমধ্যে সেই আইনজীবী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফলে খুব দ্রুত গ্রেফতারকৃত যুবকের জামিন মিলবে বলে আশা করছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা
প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগের কথা জানাজানি হলে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এদিকে পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নিশাদ ইসলাম তা মুছে ফেললেও ইতোমধ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।



