পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় না দিলে ইরান কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি এ কথা বলেছেন।
শুনানিতে রুবিওর বক্তব্য
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি আলোচনায় তেহরানকে চুক্তি করতে রাজি করানোর জন্য ওয়াশিংটন কোনোও ধরনের বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত কি না, তা জানতে চাইলে রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, ‘না, এ ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি এবং এমন কোনও প্রস্তাবও তাদের দেওয়া হয়নি।’
আলোচনার অগ্রগতি
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে রুবিও কিছুটা ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, তারা এখন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে, যা মাত্র এক মাস বা এক বছর আগেও তারা মুখে আনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তবে তিনি বলেছেন যে, এটি শেষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনও চুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অস্থিরতার কারণে এই আলোচনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোজতবা খামেনির ভূমিকা
ইরানি নেতৃত্বের বিবরণ দিতে গিয়ে রুবিও জানান, বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে না এলেও পর্দার আড়ালে এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এমন কিছু লক্ষণ মার্কিন আলোচনাকারীরা দেখতে পেয়েছেন।
রুবিও বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থায় একাধিক নেতার ভাগ্যে যা ঘটেছে, তা বিবেচনা করলে তাদের অভ্যন্তরীণ কারণেই হয়তো খুব বেশি প্রকাশ্যে আসাটা নিরাপদ নয়। তবে কিছু ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি (মোজতবা) ক্রমবর্ধমানভাবে একটি নির্দিষ্ট স্তরে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, যদিও তার সব যোগাযোগ এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে।
বুকার-রুবিও তর্কাতর্কি
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কার অবস্থান সুবিধাজনক, এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি হয়। নিউ জার্সির আইনপ্রণেতা বুকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নড়বড়ে হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতির দিকে ইঙ্গিত করেন।
রুবিও-র দিকে তোপ দেগে বুকার বলেন, আমরা এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, অথচ আমরা ইরানের সঙ্গে একটি অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছি। আর এখন আমরা এমন একটি চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করছি যা আপনারা নিজেরাই প্রথমবার ধূলিসাৎ করেছিলেন।
জবাবে ক্ষুব্ধ রুবিও বলেন, ‘এখানে কেউ কাকুতি-মিনতি করছে না।’ ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ইরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, এমন ধারণা আপনি কোথা থেকে পাচ্ছেন, তা আমার জানা নেই।’
সূত্র: এপি



