ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় এক নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘কাটমানি’ বা চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে শুরু করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সমাবেশে অর্থ ফেরত
গত রোববার (৩১ মে) পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরের কুঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামবাসীদের ডেকে একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে যেসব তৃণমূল নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা এসে টাকা পরিশোধ করেন।
স্থানীয় বিজেপি নেতার বক্তব্য
স্থানীয় বিজেপি সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একজন পঞ্চায়েত সদস্যসহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এলাকায় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি আদায় করেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পরিণতির আশঙ্কায়, পঞ্চায়েত সদস্য নিজে অনুপস্থিত থাকলেও কয়েকজন নেতাকে সামনে এসে অন্তত কিছু অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।’
অর্থ ফেরতের ঘটনা
অভিযোগ রয়েছে, রোববার স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ফকিরের কুঠির একটি স্কুল মাঠে গ্রামবাসীদের জড়ো করেন। সেখানে পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ সভাপতি তপন দে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন গ্রামবাসীর হাতে টাকা ফেরত দেন। এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত বাবাই বর্মন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে তার বৃদ্ধ বাবা ওই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের টাকা ফেরত দেন।
গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া
যারা টাকা ফেরত পেয়েছেন, তারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও ক্ষোভও জানিয়েছেন। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমার কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। পরে শুনলাম অনেককে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তাই আমি নাম নিবন্ধন করি এবং আজ আমার টাকা ফেরত পেয়েছি।’



