নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি ফেরি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের জন্য এই বিলম্ব ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
রোববার রাতে নলচিরা ঘাটে নোঙর করা ফেরি মহানন্দায় এই ঘটনা ঘটে। এমপি হান্নান মাসুদ ওই সময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটি হারুনী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঘাট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে নলচিরা ঘাটে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে। এটি পুনরায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল রাত ৭টায়, কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। সাধারণত লোডিং-আনলোডিংয়ে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
যাত্রীদের অভিযোগ
যাত্রীরা জানান, বিকেল থেকেই মোটরসাইকেলসহ যানবাহন বুকিং দেওয়া হলেও সেগুলো ঘাটে পৌঁছানোর পর উঠতে দেওয়া হয়নি। তাদের বলা হয়, এমপি আসার পরই ফেরি ছাড়বে। এই বিলম্বের কারণে চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর বা মাইজদী থেকে ঢাকাগামী রাতের বাস ধরতে পারেননি তারা।
ফেরি মাস্টারের বক্তব্য
ফেরি মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, জাহাজটি সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে পৌঁছায় এবং আনলোডিং-লোডিংয়ে সাধারণত ৪০ মিনিট করে সময় লাগে। এমপির আগমন সম্পর্কে আগেই স্টাফদের জানানো হয়েছিল, ফলে প্রাথমিকভাবে বোর্ডিংয়ে বিধিনিষেধ ছিল। তিনি বলেন, রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়েছিল।
এমপির প্রতিক্রিয়া
এমপি হান্নান মাসুদ এক বিবৃতিতে ফেরি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, কৃত্রিম যানজট এবং একটি সিন্ডিকেটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির পর ঘাটে এসে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যানবাহন উঠতে বাধা দিয়ে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং ফেরি চলাচল ব্যাহত করতে চেয়েছে। তিনি বলেন, ফেরি সেবা কোনো ব্যক্তি বা ভিভিআইপির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা নির্ধারিত সময়েই চলতে হবে। ফেরি টার্মিনালে ‘কালো সিন্ডিকেটের’ সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



