কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কর্নাটক রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। এর ফলে সিদ্দারামাইয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিকে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
দলীয় দ্বন্দ্ব ও পদত্যাগের পটভূমি
গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের শীর্ষ পদ নিয়ে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। নতুন সরকারে জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে শিবকুমারের সঙ্গে দুই থেকে তিনজন উপমুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দারামাইয়া বলেন, “আমি আগেও বহুবার বলেছি, হাইকমান্ড যখন আমাকে পদত্যাগ করতে বলবে, আমি তা করবো। দুই দিন আগে হাইকমান্ড আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেছে। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।”
সিদ্দারামাইয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
২০০৬ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া সিদ্দারামাইয়া দলটির কর্নাটকের অন্যতম প্রভাবশালী ওবিসি নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটলো। দলীয় বিরোধের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, আমাদের এক পরিবার হিসেবে থাকতে হবে। আমার মেয়াদকালে সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।”
পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা সহকর্মীদের জানান সিদ্দারামাইয়া। বৈঠকে উপস্থিত শিবকুমারকে তাকে আলিঙ্গন করতে এবং আশীর্বাদ নিতে পা ছুঁতে দেখা যায়। এতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনের আগে সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সচিবের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজ্যপাল বর্তমানে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন এবং দিনের শেষ নাগাদ তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।



