সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদ এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী। বুধবার (২০ মে) বিকেলে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের নেতা-কর্মীদের যৌন লালসায় দেশের নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এত বেশি নারী ও শিশু ধর্ষিত হচ্ছে যে, তাদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিপন্ন। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ, যা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে যেমন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তেমনি বিএনপিও দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছে। অতীতের সরকারের ব্যর্থতার বুলি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না উল্লেখ করে তিনি সরকারকে জনগণের মতামত মেনে নিয়ে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের মানুষ আজ বুঝতে পারছে না তারা কি এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যুগে আছে নাকি নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের অধীনে আছে। এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ শিশু রামিশার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি। তিনি নিজে ওই পরিবারের পাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, শিশুটির বাবা স্পষ্ট ভাষায় রাষ্ট্র কর্তৃক এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার বিষয়ে অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, কারণ অতীতে এই জাতীয় কোনো অপরাধের বিচার ভুক্তভোগী পরিবার পায়নি।
সভাপতির বক্তব্য
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে লোমহর্ষক অনেক ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের আমলে বহু নারী ও শিশু ধর্ষিত এবং খুন হচ্ছে এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তিনি নারী-শিশু নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশের অন্যান্য দিক
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।



