ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আগাম নির্বাচন এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) এই বিলের ওপর ভোট হবে। প্রস্তাব পাস হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বিভিন্ন জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কবে হতে পারে এখনও আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে অথবা অক্টোবরের শেষের দিকে ভোট হতে পারে। সাধারণত প্রতি চার বছর পর নির্বাচন হলেও ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের নজির নতুন নয়।
কেন ভাঙছে পার্লামেন্ট
নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, একটি আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি দল এ মাসে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা আর নেতানিয়াহুর সঙ্গে নেই। তাদের অভিযোগ, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে তাদের সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত জুনেও সরকার পতনের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নেতানিয়াহুর জোটই ১৩ মে পার্লামেন্ট ভাঙার বিল জমা দিয়েছে।
এখন কী হবে
বিলটি প্রথমে কমিটিতে যাবে, তারপর নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে। এরপর সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তিন দফা ভোট হবে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৬১ জনের সমর্থন লাগবে। পুরো প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেও শেষ হতে পারে।
জনমত জরিপে কী বলা হচ্ছে
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা অনেকটা কমেছে। প্রায় সব জরিপেই দেখা যাচ্ছে, তার জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। তবে বিরোধীরা যদি একজোট হয়ে সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু থেকে যেতে পারেন।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা কারা
নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জার এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তিনি বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে মিলে ‘টুগেদার’ নামে নতুন দল গঠন করেছেন। জরিপে এই দল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি ইজিনকটও বেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এখনও গতিশীল। ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।



