মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৯ বছর পর একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবার বেইজিং সফর করলেন। তবে এটি শুধু একটি কূটনৈতিক সফর ছিল না; বরং এটি ছিল বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতা, অর্থনৈতিক শক্তির পুনর্বিন্যাস, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের এক প্রতীকী প্রদর্শন।
সফরের বিবরণ
এই সফরে ট্রাম্প তাঁর পুত্র এরিক ট্রাম্প ও পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদেরও সফরসঙ্গী করা হয়। ইলন মাস্ক, টিম কুক, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং, কোয়ালকমের সিইও ক্রিস্টিয়ানো আমনসহ বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফরে অংশ নেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
করপোরেট শক্তির ভূমিকা
এই উপস্থিতি একটি বড় বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে শুধু সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবই যথেষ্ট নয়। এখন করপোরেট শক্তি, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, ডেটা অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সরবরাহব্যবস্থাও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশে পরিণত হয়েছে। একসময় যুদ্ধজাহাজ, পারমাণবিক অস্ত্র বা সামরিক জোট ছিল আন্তর্জাতিক প্রভাবের প্রধান প্রতীক। এখন উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
এ কারণেই ট্রাম্পের সফরে করপোরেট উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ছিল একধরনের অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রদর্শন। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত চীনকে দেখাতে চেয়েছে যে আমেরিকার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি এখনো বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বাস্তবতা।
অভ্যর্থনা ও আয়োজন
বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং বেইজিংয়ের গণমানুষের মহাসভার সামনে লালগালিচায় করমর্দন করেন। তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পাশের বিশাল ভবনের সিঁড়িতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন মার্কিন মন্ত্রীরা এবং বিশ্বের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বেইজিংয়ের আকাশে ছিল হালকা ধোঁয়াশা। একটি অর্কেস্ট্রা সংগীত পরিবেশন করছিল। পুরো আয়োজনটি ছিল পরিমিত, সংযত ও হিসেবি।
২০১৭ সালের সফরের তুলনায় এবারের আয়োজন অনেক কম জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। তখন নিষিদ্ধ নগরী পুরোপুরি বন্ধ করে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এবার মেলানিয়া ট্রাম্প সফরে ছিলেন না। চীনও অতিরিক্ত আবেগ বা আনুগত্যের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং, চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মা ঝাওসু।
চীনের আত্মবিশ্বাস
চীনের এই সংযত আচরণের মধ্যেও একটি রাজনৈতিক বার্তা ছিল। কারণ, ২০১৭ সালের চীন ও বর্তমান চীনের আত্মবিশ্বাস এক নয়। গত এক দশকে চীন শুধু বিশ্বের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেই নয়; বরং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পশক্তি হিসেবেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। সৌর প্যানেল, বায়ু বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি প্রযুক্তি, শিল্প স্বয়ংক্রিয়তা ও ফাইভ–জি অবকাঠামোয় চীন এখন বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মানুষের মতো দেখতে রোবট পর্যন্ত এখন চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রধান সময়ের সম্প্রচারে নিয়মিত দেখানো হয়, যেন বিশ্বকে বোঝানো যায় যে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের নতুন কেন্দ্র হতে চায় বেইজিং।
একসময় বিশ্বের কারখানা হিসেবে পরিচিত চীন এখন শুধু উৎপাদনের দেশ নয়; বরং প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন শিল্পসভ্যতার কেন্দ্র হওয়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৈশ্বিক আর্থিক শক্তির সবচেয়ে বড় প্রতীক হলেও চীন ধীরে ধীরে বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের মাধ্যমে বিকল্প শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠছে।
মানবিক দিক
অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে চীনের কিছু স্কুলশিক্ষার্থীকে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড় করানো হয়েছিল। এটি নিছক আনুষ্ঠানিক দৃশ্য ছিল না। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্য প্রায়ই সাধারণ মানুষ ও শিশুরাই দেয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতির চকচকে ছবির পেছনে মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তবতা সব সময়ই থেকে যায়।
বৈঠকের বক্তব্য
ট্রাম্প বৈঠক শুরুর আগে বলেন, ‘আজ সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারা আমার জন্য সম্মানের। আপনার বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের।’ অন্যদিকে সি চিন পিং বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্ব আজ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হব।’
কূটনৈতিক ভাষায় এ ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। কারণ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী, অংশীদার ও একে অপরের জন্য অপরিহার্য অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
সম্পর্কের জটিলতা
বর্তমান বিশ্বে কোনো রাষ্ট্র আর স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রুর ধারণায় পরিচালিত হচ্ছে না। এখন সম্পর্ক নির্ধারিত হচ্ছে প্রযুক্তি, বাজার, জ্বালানি, সামরিক সক্ষমতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রয়োজন দিয়ে। ফলে একই রাষ্ট্র একই সঙ্গে সহযোগী, প্রতিদ্বন্দ্বী ও কৌশলগত উদ্বেগের উৎস হতে পারে।
এই সফরের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাণিজ্যযুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ান ইস্যু, দক্ষিণ চীন সাগর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে, যা ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। ওয়াশিংটন চীনের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি চুরি, অন্যায্য শিল্পনীতি ও মুদ্রা অবমূল্যায়নের অভিযোগ তোলে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরাও বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েন।
প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা
কিন্তু বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় অংশ বাণিজ্য নয়, প্রযুক্তি। আজকের বিশ্বে নতুন শীতল যুদ্ধ মূলত প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে। কে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করবে, কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে, কে ডেটা অবকাঠামোর কেন্দ্র হবে এবং কে বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিই এখন বৈশ্বিক শক্তির মূল প্রশ্ন।
একসময় তেল ছিল ভূরাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র। এখন ধীরে ধীরে উন্নত চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিরল খনিজ নতুন কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। এ কারণেই জেনসেন হুয়াংয়ের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এমন উন্নত চিপ তৈরি করে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ শিল্পব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন এসব প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো উন্নত চিপ এবং সেগুলো তৈরির যন্ত্রপাতি রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর পুরোপুরি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না। কারণ, বিরল খনিজ উপাদান, শিল্প সরবরাহব্যবস্থা ও উৎপাদন অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো চীনের নিয়ন্ত্রণে। আধুনিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা শিল্প, মহাকাশ প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামালের সরবরাহ চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ই এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা প্রায় অসম্ভব।
তাইওয়ান প্রশ্ন
তাইওয়ান প্রশ্নও এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের একটি বড় অংশ নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় ও বাস্তবিক স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র তাইওয়ান। ফলে তাইওয়ান এখন শুধু আঞ্চলিক বিরোধ নয়; বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত শক্তির ভারসাম্যের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গ
এই বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরান। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি। দেশটির বিপুল পরিমাণ তেল চীন কিনে থাকে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরান বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড কৌশল ও পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প অর্থনৈতিক জোট গঠনের ক্ষেত্রেও তেহরান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে ইরানকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রেও বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমের আচরণ
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সফরকে তুলনামূলকভাবে সীমিত গুরুত্ব দিয়েছে। সংবাদ প্রকাশ করা হলেও সেটিকে অতিরিক্ত প্রচারের কেন্দ্র বানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটিও একধরনের নীরব বার্তা। বেইজিং সম্ভবত দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি চীনের জন্য একমাত্র কৌশলগত অগ্রাধিকার নয়।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা
সব মিলিয়ে এই সফর আবারও প্রমাণ করেছে যে বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আর শুধু বন্ধুত্ব বা বৈরিতার ওপর নির্ভর করে না। এখানে স্বার্থ, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, জ্বালানি, সামরিক ভারসাম্য ও সরবরাহব্যবস্থাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। বাংলাদেশের জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে, যেখানে কোনো একক শক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা তৈরি না হয়।
বাংলাদেশ একদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবে না। অন্যদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোর সঙ্গেও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। বর্তমান বিশ্বে ছোট ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হচ্ছে কৌশলগত ভারসাম্য।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক কূটনীতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করা। সবশেষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভূকৌশলগত অবস্থান। বঙ্গোপসাগর, ভারত, চীন ও ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব যখন নতুন শক্তির ভারসাম্যে প্রবেশ করছে, তখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এক পক্ষের ছায়ায় দাঁড়ানো নয়; বরং নিজের কণ্ঠস্বর, সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা, যেন সবাই তাকে প্রয়োজনীয় মনে করে।



