দিনাজপুরে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে কৃষক বিপাকে
দিনাজপুরে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে কৃষক

দিনাজপুরের হিলিতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই। উৎপাদনে তেমন একটা প্রভাব না পড়লেও বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেইসঙ্গে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষকদের অবস্থা

কৃষকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ জমির ধান পেকে যাওয়ায় ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে পড়েছেন বিপাকে। গতবারের চেয়ে এবার ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়েছে। তবু মিলছে না। বাড়তি টাকা দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

হিলির লোহাচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘একে তো ধান পেকে গেছে। তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যাচ্ছে না। আবার বৃষ্টিতে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকের মজুরি বেশি চাচ্ছে। গতবার এক বিঘা জমির ধান কাটতে লেগেছিল তিন হাজার ৫০০ টাকা, এবার লাগছে সাত হাজার টাকা। এরপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বিঘাপ্রতি ধান মাড়াইয়ে লাগছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। বর্তমানে চিকন জাতের ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যাচ্ছে না। আবার বাড়তি টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।’

সাতকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এবার ধানে লাভ হবে না। লোকসানই হবে। এক বিঘায় ধান কাটায় লাগছে সাত হাজার টাকা। যা আগের বারের চেয়ে দ্বিগুণ। সব খরচ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি।’

শ্রমিকদের দৃষ্টিভঙ্গি

ধান কাটার শ্রমিক সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘আমরা বিঘা প্রতি ধান কাটায় ছয় হাজার টাকা নিচ্ছি। আর মাঠ থেকে বাড়ি পৌঁছে দিতে নিচ্ছি ৭০০ টাকা। জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে আমাদেরও পোষায় না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও ৩ হেক্টরে বাড়তি আবাদ হয়েছে। মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেলো এক বিঘায় ২৬-২৭ মণ ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকরা এসেছেন ধান কাটতে। শ্রমিক সংকট কেটে যাবে। কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই দ্রুত ধান কাটা ও সংরক্ষণের বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’