তামিলনাড়ুর সচিবালয়ে বহু দশকের পুরোনো এক দৃশ্য বড় কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই রেওয়াজকে অনেকে ক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের প্রতীক হিসেবেই দেখেন। শুক্রবার (১৫ মে) থেকে আর সেই পুরোনো প্রথাতেই এবার কার্যত ইতি টানলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়।
গত ১০ মে শপথ নেয়ার পর থেকেই একের পর এক আলোচনায় থাকছেন বিজয়। এবার তার দপ্তরের একটা ছোট পরিবর্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে আর সেই চিরচেনা সাদা তোয়ালে দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনার শুরু সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগামের একটি পোস্ট থেকে। এক্স-এ লেখা তার পোস্টে তিনি বলেন, সরকারি অফিসে চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতা এখনও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতীক। শুধু মন্ত্রীরা নয়, অনেক উচ্চপদস্থ আমলাদের ঘরেও এই প্রথা চলছে। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে আবেদন জানান, এই রেওয়াজ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
আশ্চর্যের বিষয়, পোস্টের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবর্তনটা চোখে পড়ল। ১৫ মে সচিবালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজয়ের চেয়ারে আর কোনো সাদা তোয়ালে ছিল না। পরে প্রকাশিত ছবিগুলোতে স্পষ্ট দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার একদম সাধারণ- উপরে কোনো কাপড় নেই।
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি বা নির্দেশিকা দেয়া হয়নি। তবে নেটদুনিয়ায় এটাকে ‘প্রতীকী কিন্তু খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকে। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর বার্তা দেয়া হয়েছে। লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগাম নিজেও বিজয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে তিনি সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা ও আরামের জন্যই এই প্রথা চালু হয়েছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরেও সেই সংস্কৃতি অনেক জায়গায় টিকে ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে থালাপতি বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে শুধু আসবাব বদল নয়, প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে একটা নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও একটা ছোট পরিবর্তন, কিন্তু বার্তাটা বেশ বড়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



