জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম
বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলে বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যা জাতিসংঘের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় অঙ্গীকার
বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটি জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, 'বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখব এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করব।'
বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, 'বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে একটি মডেল দেশ হিসেবে বিবেচিত। তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ।'
বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার দায়িত্বশীল অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তুলল। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



