ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১৬তম দিনে উঠে এলো নানা টুকিটাকি ঘটনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনটি ছিলো আজ রবিবার। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উঠে এসেছে নানা ছোট ছোট ঘটনা, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। এসব টুকিটাকি বিষয় কখনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে, আবার কখনো তৈরি করেছে হাস্যরসের পরিবেশ।
তেল সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানার তীব্র বক্তব্য
পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তেল সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেশ বৃদ্ধিই হলো মাননীয় স্পিকার। কিন্তু, তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটার জুড়ে লম্বা লাইন। আমরা দেখলাম, মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছে, তেল পাচ্ছে না। কিন্তু, সরকারের সেই ব্যাপারে কোনও হেলদোল নাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের যদি কোনও সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন। কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে? আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কত দিনের আছে?” রুমিন ফারহানার বক্তব্য শেষ না হতেই সরকার দলের পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ ও প্রতিবাদ
রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলাকালে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের অশালীন অঙ্গভঙ্গির কথা উল্লেখ করে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সম্মানিত কিছু সদস্যের অশালীন অঙ্গভঙ্গি আমার বিবেককে আঘাত করেছে। আমি চার-পাঁচবার নির্বাচিত হওয়া সদস্যদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংসদে একটি ভালো সংস্কৃতির চর্চা হওয়া উচিত, কিন্তু বারবার বলার পরও এমন আচরণ দুঃখজনক।
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্ন ও আশাবাদ
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, “ফাংশনাল পার্লামেন্টের জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করা এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু, গত দুই সপ্তাহ ধরে দেখছি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো শুধু টেবিলে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সংসদ কি তাহলে কেবল একটি স্ক্রিপ্টেড মনোলগ সেশনে পরিণত হবে?” এ সময় তিনি আরও বলেন, “আমরা কবে ট্রেজারি বেঞ্চে যাবো, ৪৫ মিনিট ধরে কথা বলবো। অবশ্যই আমরা বলবো। সেইদিন অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আসবে।”
ওবায়দুল্লাহ সালাফীর বিএনপি সমালোচনা
নীলফামারী-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফী সংসদে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি বলেছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থেকে শুরু করে এমনকি আমার এলাকা তো আমি দেখেছি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে সবার আগে দেওয়া হয়।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ না সবার আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা?”
হাস্যরসের মুহূর্ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের পরিচয়
সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলামকে নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি মজা করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনি কিন্তু মুহসীন হলের ভাইদেরকে সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি কিন্তু মুহসিন হলের কাছেই জসিমউদ্দিন হলের ছাত্র। আমি কিন্তু দূরে না, জসিমউদ্দিন হল থেকে দৌড়ে কিন্তু মুহসিন হলে যাওয়া যায়। আমাকে দুই মিনিট সময় দিতে হবে।” তার এমন কথায় সংসদের বাকি সদস্যরা টেবিল চাপড়ে হাসতে শুরু করেন। স্পিকার হাসতে হাসতে তাকে বক্তব্য শেষ করতে বলেন এবং পরে তাকে দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়।



