ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিজয়ীদের শপথ মঙ্গলবার, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। সাধারণত বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তেমনটি হচ্ছে না। এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়, যা একটি নতুন স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিএনপির প্রেস সচিবের বক্তব্য
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, “সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমাদের দিক থেকে কোনও আপত্তি নেই।” এই মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে যে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনে কোনো বাধা নেই, যা রাজনৈতিক সহযোগিতার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি
এর আগে শনিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মঙ্গলবার সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। একইদিন বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় সেদিন। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী:
- বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়েছে।
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে।
- ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন।
- ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন।
- এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
- আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
এই ফলাফল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক গঠনকে নির্দেশ করছে, যেখানে বিএনপি একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্তটি একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রমের সূচনা করবে।



