নোয়াখালী-৬ আসনে বাবা-ছেলের নির্বাচনী লড়াই: হান্নান মাসউদ জয়ী, বাবা জামানত হারালেন
নোয়াখালী-৬ আসনে বাবা-ছেলের নির্বাচনী লড়াই

নোয়াখালী-৬ আসনে বাবা-ছেলের নির্বাচনী লড়াই: হান্নান মাসউদ জয়ী, বাবা জামানত হারালেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একই পরিবারের দুই সদস্য দুই ভিন্ন দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক একই আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামেন। তবে ফলাফলে দেখা গেছে, বাবা-ছেলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান আকাশ-পাতাল।

ভোটের ফলাফলে বিশাল ব্যবধান

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ১১–দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে একতারা প্রতীকে লড়ে মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়েছেন।

এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। হান্নান মাসউদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৬৪ হাজার ২১ ভোট পেয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার কারণ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনের বেশির ভাগ প্রার্থীরই একই পরিণতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নির্বাচনে ছেলেকে সহায়তার জন্য আমিরুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

হাতিয়া উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় নোয়াখালী-৬ আসনের অনেক প্রার্থীই তাঁদের জামানাত হারাবেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই নির্বাচনী লড়াইটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বাবা-ছেলে একই আসনে দুই ভিন্ন দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।