দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চান হাসনাত আবদুল্লাহ
দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চান হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে রাষ্ট্রপতি ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, আওয়ামী লীগের সময়ও ছিল। তবে, সেটা সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা শুধুমাত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে ব্যাকস্পেস ব্যবহার করতে চাই না।”

ভয়ের পরিবেশ ও নির্বাচিত বিরোধিতার সমালোচনা

এনসিপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আবার একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা দেখলাম, সিলেক্টিভ এক ধরনের বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এক ধরনের পলিটিক্যালি এলিট শ্রেণির নারীদেরকে নিয়ে যখন সমালোচনা করা হয়, তখন সেটাকে নারীদের বিরোধিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু, যারা পলিটিক্যালি পিছিয়ে পড়াদের যখন গালি দেওয়া হয় সেটাকে আমরা নারী বিরোধিতা হিসেবে আমলে নেই না। এই ধরনের সিলেক্টিভ নারী সমালোচনা করার যে প্রবণতা রয়েছে সেই জায়গাগুলো থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

‘মোনাফেক’ বলার প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু স্পিকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, সংসদে কাউকে ‘মোনাফেক’ বলতে পারবেন কি না। তিনি বলেন, “আমি নতুন। আমি কি কাউকে মোনাফেক বলতে পারবো এই সংসদে?” তার এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, “না, পারবেন না।” এরপর সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন, “আচ্ছা, আমি মোনাফেক বললাম না কাউকে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধু আনার শর্তে সময় বৃদ্ধি

সবার জন্য মধু আনার শর্তে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক মিনিট সময় বাড়িয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সম্মানিত স্পিকার, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে আমাদের দলের নেতা বলেছেন, আমরা আমাদের কথাগুলো আরও সংযত করবো এবং সুন্দরবনের মধু আমাদের ঠোঁটে লাগে মিষ্টি কথা বলার আমরা চেষ্টা করবো। আমার এলাকা হলো সুন্দরবন। আমি সকল মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে সুন্দরবনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং মধু খাওয়ার ও সুন্দরবন ভ্রমণের দাওয়াত দিচ্ছি।” এ সময় তার সময় শেষ হয়ে গেলে ডেপুটি স্পিকার মজা করে বলেন, “মাননীয় সদস্য, আপনি খুব ইন্টেলিজেন্ট। আমি সুন্দরবনের মধুর কথা বলার পরে অনেকে দেখাচ্ছিল এরকম (মধুর বড় বোতল) হয়তো ভেবেছিলাম আপনি সবার জন্য নিয়ে আসবেন। এরকম না হলেও এরকম (মধুর ছোট বোতল) হলেও আনার চেষ্টা করবেন। সবার জন্য নিয়ে আসলে এক মিনিট বাড়ালাম, যান।”

অস্থিরতা প্রদর্শনের অভিযোগ

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান বলেন, “আগে যারা প্রধান উপদেষ্টার বেডরুম কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যেতেন। এখন সেই অনৈতিক সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতারা সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন।” প্রতিমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে এক হাজার ২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং শহীদ ব্যবসার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।”