সংসদ গ্যালারির নাম বীরশ্রেষ্ঠদের নামে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঐতিহাসিক পরিবর্তন
সংসদ গ্যালারির নাম বীরশ্রেষ্ঠদের নামে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সংসদ গ্যালারির নাম বীরশ্রেষ্ঠদের নামে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ গ্যালারিগুলোর নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ সাত শহীদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সংসদ ভবনে পরিদর্শনকালে নতুন নামফলকগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল, যা এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নামকরণের সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, এর আগে সংসদ গ্যালারিগুলোর নাম সাধারণ বা ভৌগোলিক ভিত্তিতে নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি পরামর্শ ও নির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ নামকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি এখন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়েছে।

সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে গ্যালারি

সংসদ ভবনের ভেতরে স্থাপিত নতুন নামফলকগুলোতে এখন স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের সম্মানজনক নাম। নামকরণকৃত গ্যালারিগুলো হলো:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্যালারি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ গ্যালারি

এই নামকরণ শুধু স্থান চিহ্নিতকরণের মাধ্যম নয়, বরং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে চেতনা বিস্তার

আতিকুর রহমান রুমন আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সংসদে এই নামফলক স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পৌঁছে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

পাশাপাশি, সংসদ ভবনে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, গবেষক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় ও সুসংহত করবে এই নামকরণ। সংসদ ভবন এখন কেবল আইন প্রণয়নের কেন্দ্রই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহ্য বহনকারী একটি জাতীয় স্মারক স্থানেও পরিণত হয়েছে।

এই পরিবর্তনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দিতে সহায়ক হবে।