জাতীয় সংসদে 'গুপ্ত' নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক, সরকার-বিরোধীদলের তীব্র বাকযুদ্ধ
সংসদে 'গুপ্ত' নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক, সরকার-বিরোধীদলের তর্ক

জাতীয় সংসদে 'গুপ্ত' নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক, সরকার-বিরোধীদলের তীব্র বাকযুদ্ধ

জাতীয় সংসদে 'গুপ্ত' শব্দ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এই উত্তাপ সৃষ্টি হয়, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়েছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের তীব্র বক্তব্য

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া আলোচনার সূত্রপাত করে সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জনগণ আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না এবং তাকিয়েও থাকবে না।" তার মতে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আচরণে প্রতীয়মান হচ্ছে যে তারা দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে দেবে না।

ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও বলেন, "যারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না।" তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে নাজেহাল করার জন্য চক্রান্ত চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনা উল্লেখ

স্পিকারকে সম্মোধন করে ওয়াদুদ ভূঁইয়া চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার ছাত্রদলের ওপর হামলা করা হয়েছে শুধুমাত্র 'গুপ্ত' শব্দটি উল্লেখ করার কারণে। "ছাত্রদল শুধু বলেছে 'গুপ্ত', লিখেছে 'গুপ্ত'—সেই জন্যই তারা হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে," বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দল সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চায় ফ্যাসিস্টের মতো কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা করছে।

বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র প্রতিবাদ

ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন।" তিনি এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জনগণ বসে থাকবে না, মানে কী? তিনি কি উস্কে দিচ্ছেন জনগণকে? বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন, এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।" তিনি দাবি করেন, একজন সংসদ সদস্য হুমকির ভাষায় কথা বলে জনগণকে আঘাত দিয়েছেন।

অন্যান্য সংসদ সদস্যদের বক্তব্য

জামায়াতের সদস্য মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের সিটি কলেজের ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, "কারো ওপর দায় না চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।"

বিএনপি দলীয় সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবীব বলেন, বিরোধী দলের অসহিষ্ণু আচরণ ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে। তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "শুধু বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা না করে আসুন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই। ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।"

স্পিকারের মধ্যস্থতা

এসময় স্পিকার বলেন, "আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনও অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করবো।" তবে তিনি আরও যোগ করেন, "আর যেসব বক্তব্য—এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না। এগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন।"

স্পিকার সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার সময় ডিস্টার্ব না করার জন্য অনুরোধ জানান, পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে বিতর্কের জবাব দেওয়ার সুযোগ সবাই পাবেন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই উত্তপ্ত বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে 'গুপ্ত' শব্দটি কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।