সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য বিকৃতির তীব্র অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত, যিনি হাসনাত আবদুল্লাহ নামে পরিচিত, বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছেন যে সংসদ সদস্যদের যানবাহন সুবিধা নিয়ে তার বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি পয়েন্ট অফ অর্ডার উত্থাপন করে তিনি এই বিষয়ে স্পষ্টতা দেন এবং তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন যে তিনি ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ না করার তার অঙ্গীকারে অবিচল রয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তার প্রস্তাবটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার অনুরূপ একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল।
তার মতে, সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি মালিকানাধীন একটি গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, যা জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ডেপুটি কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই হবে।
সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিস্তারিত
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "একটি সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি একজন সংসদ সদস্য শুধুমাত্র তার দায়িত্বকালীন সময়ে ব্যবহার করতে পারবেন, এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি সরকারের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। এতে কোনো অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।"
তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যকে সরকারি গাড়ি প্রদান করা না হলেও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক প্রায় ৭০,০০০ টাকা দেওয়া হয়। তার প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এই ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
ত্রয়োদশ সংসদ গঠনের পর অঙ্গীকার ও মিডিয়া বিকৃতির অভিযোগ
হাসনাত আবদুল্লাহ স্মরণ করিয়ে দেন যে ত্রয়োদশ সংসদ গঠনের পর সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লটের মতো সুবিধা ভোগ না করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, "আমি মঙ্গলবার সংসদে সেই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছি। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়া আউটলেটে আমার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।"
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে।



