রাবিতে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন: ছাত্রশিবিরের 'গুপ্ত রাজনীতি' নিষিদ্ধের দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তথাকথিত 'গুপ্ত রাজনীতি' নিষিদ্ধের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন প্রাচীরে লাল ও কালো রঙ দিয়ে 'গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই' লেখার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
নেতাদের বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি
দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, "একাত্তরের রাজাকার বাহিনীরা জুলাই পরবর্তী সময়ে নিজেদের ইসলামিক সংগঠন হিসেবে দাবি করছে। তারা গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আজকে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে তাদের গুপ্ত রাজনীতি থেকে বের হয়ে সুষ্ঠু ধারায় প্রকাশ্যে রাজনীতি করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরকে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি চালায়, আমরা সেটা সাংগঠনিক এবং আইনগতভাবে প্রতিরোধ করব।"
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
কর্মসূচিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, "জামায়াত শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আমরা আজকে লাল কালি দিয়ে দেয়াল লিখন করছি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি হতে দেব না।"
তিনি আরও বলেন, "যদি তারা গুপ্ত রাজনীতি থেকে বিরত না থাকে তাহলে সরকার থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাব। আমরা চাই তারা সুষ্ঠু ধারায় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করুক।"
কর্মসূচির বিস্তার ও পূর্ববর্তী ঘটনা
ছাত্রদল জানিয়েছে, আজকে চার-পাঁচটি জায়গায় দেয়াল লিখন কর্মসূচি করা হবে। পর্যায়ক্রমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মসূচি চলবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে 'ছাত্র' শব্দ মুছে 'গুপ্ত' শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয়পক্ষ।
এই ঘটনাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল লিখন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ছাত্রদলের এই কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।



