ছয় বছরের শিশু নিশাত। পড়তো নার্সারিতে। গত ১৫ এপ্রিল চিপস কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় এই শিশু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা তার হদিস পায়নি। নিখোঁজের দু'দিন পর বাড়ির পাশের একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তদন্তে নামে পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় ইসহাক নামে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে। অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় প্রতিবেশী ইসহাক নিশাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
মেয়ের হত্যার খবরে দেশে ছুটে আছেন সৌদি প্রবাসী বাবা সাদেক মিয়া। এরপর থেকে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে একাই লড়াই করছেন এই বাবা। নিশাতের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১১টার দিকে রাজধানী পল্লবীর রামিসার বাসার সামনে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় সাদেক খানের। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমারও এক শিশু মেয়ে এ রকম নিষ্ঠুর হত্যার শিকার। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক নরপশু আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। রামিসার হত্যার খবর শোনার পর আসবো আসবো করে আসা হচ্ছিল না। আজ সকালে আমি এখানে এসেছি।”
তিনি বলেন, “সারা দেশে যেভাবে শিশুদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন শুরু হয়েছে তাতে করে আমরা নিরাপদ মনে করছি না।” কান্না করতে করতে সাদেক বলেন, “আমার আমার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নিশাতকে হত্যা করলো। এরপর বস্তভর্তি করে বাসার পাশেই ফেলে রাখলো। ঢাকাতে বাসার মধ্যেই ঘটলো নারকীয় হত্যাকাণ্ড। ওদিকে চট্রগ্রামেও এরকম ঘটনা ঘটেছে।”
প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বাচ্চারা কোথায় নিরাপদ। দেশে কি শুরু হইলো। এর একমাত্র কারণ সঠিক বিচার না হওয়া। এ ধরনের ঘটনার দোষীদের প্রকাশ্য ফাঁসি হলে আর কোনোদিন কেউ এ ধরনের ঘটনা করার সাহস পেতো না। আমি এ ধরনের হত্যার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”



