নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
সমান মজুরি নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মহান মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আইএলও কনভেনশন অনুস্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মোট ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। আইএলও-র সঙ্গে নিবিড় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসেবে বিগত ঈদুল ফিতরে দেশের সব শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

মে দিবসের প্রতিপাদ্য

এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। এই প্রতিপাদ্যের প্রেরণা ধারণ করেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী ১৮৮৬ সালের মে মাসে শিকাগোর ‘হে মার্কেটে’ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আত্মত্যাগকারীদের এবং বিশ্বজুড়ে অধিকার প্রতিষ্ঠায় হতাহত হওয়া সকল শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

শ্রমিক: উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন

তারেক রহমান বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র ও সমাজের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। তিনি শ্রমিক কল্যাণে নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি উল্লেখযোগ্য। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

বিএনপির শ্রমবান্ধব উদ্যোগ

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন সংস্কার, বেতন ও মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বোনাস প্রদান, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং তাদের সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা। পোশাক শিল্পে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তার বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা করেন তিনি।