আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসানকে (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী কনস্টেবল মো. মোবারক হোসেনকে জেরা করা হয়েছে।
সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা
গত সোমবার ১৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান তাঁকে জেরা করেন। জেরায় কনস্টেবল মোবারক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এসআই সুজন চন্দ্রসহ অন্য কেউ নিহত হয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি ডেমরা থানায় যোগদান করেন।
জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্রাগার ইনচার্জের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তাঁর সরবরাহ করা অস্ত্র, গুলি ও গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই।
১৮তম সাক্ষীর জেরা
একই মামলার ১৮তম সাক্ষী এসআই খন্দকার মিজবাহ উদ্দিনকেও আজ জেরা করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান যে চায়না রাইফেল ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে বিষয়টি তিনি ওয়্যারলেস অপারেটর কনস্টেবল নাহিদের কাছ থেকে জেনেছেন।
মামলার বিবরণ
ইমাম হাসান হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ১১ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন:
- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী
- ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন
- ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান
- ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম
- সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস
- সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন
- সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক
- সাবেক উপপরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।



