খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতন: পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার
খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতনে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনায় গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কের পাশে জব্বার প্লেসে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রের ভাড়া বাসায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার পিতৃ-মাতৃহীন কিশোরী মিলন দাস (২২) গৃহকর্মী হিসেবে ছোটবেলা থেকেই পুলিশ দম্পতি সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্রের বাসায় ছিল। ভুক্তভোগী গৃহকর্মী মিলন দাসের বাড়ি নেত্রকোনায়।

নির্যাতনের বিবরণ

অভিযোগ উঠেছে, তরকারি পুড়ে যাওয়ায় ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়। তারপর ওই গরম কড়াই দিয়ে তাকে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। আর এই নারকীয় দৃশ্য ধরা পড়ে এক ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরায়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গায় একটি চারতলা বাড়ির বারান্দায় একজন কিশোরীকে একাধিকবার কানধরে উঠবস করানো হচ্ছে। উঠবসে দেরি হলে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এ সময় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেও দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে একজন সংবাদকর্মী ও তিনজন সামাজিক সংগঠনের নেত্রী দ্রুত ওই বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে তারা ৯৯৯ কল দিয়ে পুলিশ নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেন। তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধরসহ গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারী নেত্রীর বক্তব্য

নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, ঘটনাটি উজ্জ্বল নামে একজন ফটো সাংবাদিক দেখতে পান। আমরা ওই সময় বাড়িটির পাশে সোলার পার্কে সিটি মেয়রের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। খবরটি পেয়ে আমিসহ আরও তিনজন নারী নেত্রী ও দুইজন সাংবাদিক বাড়িটিতে যাই। কিন্তু দীর্ঘ দেড়ঘণ্টা ধরে বাড়ির গেট খোলা হয়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে সোনাডাঙ্গা থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও গৃহকর্তা এএসআই সঞ্জয় মিত্র বাসায় আসলে ঘরের দরজা খোলা হয়। এ সময় মেয়েটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ও গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। এরপর পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।

পুলিশের বক্তব্য

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মেয়েটি একটু ভারসাম্যহীন। তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ইতোমধ্যে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।