লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের কমিটি
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশের কমিটি
এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আসামির স্বীকারোক্তি
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, বিধান চন্দ্র নন্দিনী হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, 'সে জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে রাগের বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাই তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।'
আসামি দাবি করলেও নন্দিনী ধর্ষিত হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে মঙ্গলবার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফালিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী কান্তা রায়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন সে নিখোঁজ হয়েছিল।
ঘটনার পর বিধান চন্দ্র রায় ও তার বাবা রঞ্জিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহতের বাবা নলিনী কান্তা রায় মঙ্গলবার বিধান ও তার বাবা রঞ্জিতসহ তিনজনের নামে মামলা করেন। বিধানের মা সাবিত্রীকেও মামলায় আসামি করা হয়।
উত্তেজনা ও সংঘর্ষ
পুলিশ যখন দুই আসামিকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন স্থানীয় উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে অফিসার ইনচার্জসহ ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
উত্তেজিত জনতা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের আটক করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং আসামি বিধান ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে যায়।
নন্দিনী সোমবার নিখোঁজ হয়। তার মরদেহ মঙ্গলবার সকালে একটি বস্তাবন্দি অবস্থায় nearby ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার রাতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়।



