বাকেরগঞ্জে সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার ঘুসবাণিজ্যের অভিযোগ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ মাস দায়িত্ব পালনকালে কয়েক কোটি টাকার ঘুসবাণিজ্য, কাল্পনিক প্রকল্প ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের দ্বৈত দায়িত্বে থাকাকালীন ঠিকাদারি বিল প্রদান, টিআর, কাবিখা, কাবিটার বরাদ্দ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত পার্সেন্টেজ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
উপজেলা পরিষদের সূত্রমতে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাকেরগঞ্জে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল তুলতে ১২% হারে ঘুস দিতে হতো রুমানা আফরোজের নামে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের মাধ্যমে এই টাকা আদায় করা হতো। এছাড়া, ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ কাজে ৫%, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২%, এবং এলজিইডির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণে আরও ২% টাকা তার নামে নেওয়া হতো। ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের মতে, ইউএনও অফিস বাঁধা রেটে এই পার্সেন্টেজ আদায় করত।
অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ
রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি অস্তিত্বহীন এতিমখানার নামে ১৫ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বলে অভিযোগ। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বরাদ্দ থেকে ১০ লাখ টাকা সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে ব্যয় দেখানো হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরিত্যক্ত ইউএনও বাসভবনে থাকার জন্য ১৫ মাসে ২ লক্ষাধিক টাকা ভাড়া না দেওয়া এবং রাস্তা মেরামতের নামে ৬ লাখ টাকা খরচ দেখানোর ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।
পৌর প্রশাসক হিসাবে দুর্নীতি
পৌর প্রশাসক হিসাবেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদাররা জানান, বিল ও জামানতের টাকা ফেরত পেতে ৫% হারে ঘুস দিতে হতো। পৌরসভায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা ঘুস আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বদলির আগে তড়িঘড়ি করে অবাস্তব প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান এবং জাতীয় দিবসের নামে ইট ভাটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রুমানা আফরোজের প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ইউএনও হিসেবে বদলি হওয়া রুমানা আফরোজ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার আশায় ব্যক্তিদের অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে ভুলত্রুটি হতে পারে, কিন্তু ঘুস বা দুর্নীতির কোনো ঘটনা সত্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।



