নরসিংদীর মাধবদীতে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজ্জাদ হোসেন (২২) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার ঘটনা ঘটেছে। ওই তরুণকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তিনটি বাড়িতে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেন।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল রোববার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মাধবদী পৌরসভার খনমর্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাজ্জাদ হোসেন (২২) ওই এলাকার প্রবাসী মাহাতাব ভূঁইয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার এক কলেজছাত্রীর (১৭) সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। এর আগে তাঁরা একাধিকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন; গোপনে বিয়েও করেছেন। ছেলের পরিবার তাঁদের বিয়ে মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার ‘প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায়’ মানতে পারছিল না। বিরোধ মেটাতে গত শনিবার রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিস হয়। সিদ্ধান্ত হয়, মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ণ হওয়ার পর সামাজিকভাবে দুজনের বিয়ে দেবেন। এর আগপর্যন্ত মেয়েটি বাবার বাড়িতে থাকবে।
হামলা ও অগ্নিসংযোগ
গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন রাস্তায় সাজ্জাদকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে জখম করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় সাজ্জাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন, স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হন। তাঁরা উত্তেজিত হয়ে প্রথমে মেয়ের বাড়ি, পরে তার চাচা ও ফুফুর বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় আগুন নেভানোর জন্য আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। তিনটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর সেখানে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রায়হান বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে ঘটনাস্থল, আমরা আগুন দেখতে পাচ্ছিলাম। স্থানীয় লোকজন এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে আমাদের গাড়ি বের করতেই দিচ্ছিলেন না। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে কল আসলে থানার ওসিকে পরিস্থিতি জানিয়ে সাহায্য চাই। টহলরত থানা-পুলিশের চার সদস্যের একটি দল আসে। গাড়িতে সাইরেন বাজিয়ে যেই রওনা হব, অন্তত দুই শতাধিক উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা হাতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পুলিশ সদস্যরা পর্যন্ত ভয়ে ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। ধাক্কাধাক্কি করে তাঁরা আমাদের কার্যালয়ের গেট ভেঙে ফেলেন। আমরা একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে ভেতরে আটকে ছিলাম।’
মো. রায়হান আরও বলেন, ‘পরে নরসিংদী থেকে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আসেন। তখন আমরা আগুন নেভাতে যাই। পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। এক বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেই না আনতেই আরও দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টা ১০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে তিন বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পেট্রল ঢেলে এসব বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।’
পুলিশের বক্তব্য
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রেমের বিয়ে মেনে নিতে না পেরে মেয়ের পরিবার একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তরুণকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করার জেরে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কয়েক দফা চেষ্টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



